In the Name of Allah, The Most Gracious, Ever Merciful.

Love for All, Hatred for None.

Browse Ahmadiyya Bangla

হাদীস শরীফ এর আলোকে মাহে রমযান

হযরত আবূ আইয়্যুব (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, হযরত রসূল করীম (সঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি রমযানের রোযা রাখে এবং পরবর্তীতে (ঈদের দিন বাদ দিয়ে) শাওয়াল মাসের ছয়টি রোযা রাখে সেক্ষেত্রে সে যেন গোটা বছরই রোযা রাখলো।

(সহীহ্‌ মুসলিম)

ব্যাখ্যাঃ রমযান একটি পবিত্র মাস। এ মাসের ইবাদত খোদার নিকট সবচে’ প্রিয়। কারণ, নামায ও রোযার সমন্বয় মানুষের মধ্যে খোদার নৈকট্য লাভের এক আলোড়ন সৃষ্টি করে দেয়। তা এভাবে যে, নামায আত্মাকে পবিত্র করে এবং রোযা হৃদয়কে আলোকিত করে। ফলশ্র“তিতে নিষ্ঠাবান ব্যক্তি রোযা দ্বারা আধ্যত্মিকতার এক নতুন রাস্তায় পরিচালিত হয়ে খোদার সন্তুষ্টির ছায়াতলে চলে আসে। কুরআন বলে যে, রোযা তোমাদের মাঝে তাক্ওয়া অর্থাৎ খোআ-ভীতি সৃষ্টি করবে। এ তাক্ওয়া কিভাবে সৃষ্টি হবে? বস্তুত রোযা এমন ইবাদত যা মানুষের প্রতিটি ইন্দ্রয়কে খোদার সন্তুষ্টির জন্যে নিয়ন্ত্রণ করে। যদি ইন্দ্রিয়কে নিয়ন্ত্রণ না রেখে কেউ রোযা রাখে তবে এটা রোযা নয় বরং অন্য কিছু। খোদা-ভীতির সৃষ্টি এভাবেই হয় যে, মানুষ খোদার সন্তুষ্টির জন্য নিজের মন-মেজায ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে খোদার ইচ্ছার উপর ছেড়ে দেয়। ফলে ধীরে ধীরে তার অবাধ্য আত্মা নিয়ন্ত্রণাধীন হয়ে পড়ে। ঐ সকল কর্ম হতে সে দূরে সরে পড়ে যা খোদার অসন্তুষ্টির কারণ হয়। হযরত রসূল করীম (সঃ) শাওয়াল মাসের ছয়টি রোযার কথা উল্ল্যেখ করে এর গুরুত্ব বর্ণনা করেছেন যে, রমযানের ৩০টি ও শাওয়ালের ৬টি মোট ৩৬টি রোযা যে রাখবে সে যেন সারাটা বছর রোযা রাখার সওয়াব পেল। এক হাদীসে আছে, এক রোযার দশটি সওয়াব। এভাবে ৩৬দ্ধ১০ মোট ৩৬০ হয় অর্থাৎ ৩৬০ দিন রোযা।

হযরত আবূ হুরায়রা (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, হযরত রসূল করীম সাল্লাল্লাহু আলায়হে ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি ঈমান ও পূর্ণাঙ্গীণ শর্তাবলী সহকারে রমযানের রোযা রাখে তার পূর্ববর্তী সকল গুনাহ্ ক্ষমা করে দেয়া হয়।

(সহীহ্‌ বুখারী)

ব্যাখ্যাঃ যদি কেউ পূর্ণ শর্তাবলীর সাথে রোযা পালন করে তবে তার পূর্বেকার সকল পাপ মাফ করে দেয়া হবে। এর অর্থ হলো, রমযান তাক্ওয়ার সৃষ্টি করে থাকে। যদি কেউ রোযা পালনের মাধ্যমে তাক্ওয়া নিজের মাঝে সৃষ্টি করে নেয় ও তওবাতুন নাসূহ্ (অর্থাৎ পূর্ণাঙ্গীন তওবা দ্বারা নিজের সংশোধন করে নেয় আর কখনও পাপের দিকে ফিরে না তাকায়) করে, তাহলে এমন ব্যক্তির প্রতি খোদা দয়া পরবশ হয়ে তার গুনাহ্ মাফ করে দেন।

রোযার মাস সংযমের মাস, সাধনার মাস। আসুন এ রেমযানে আমরা চেষ্টা করি, সাধনা করি যেন আমাদের অবাধ্য আত্মা অর্থাৎ ‘নফসে আম্মারা’ প্রশান্তি-প্রাপ্ত আত্মাতে অর্থাৎ ‘নফসে মুতমাইন্না’তে পরিণত হয়। আল্লাহ্তাআলা আমাদের সবাইকে পবিত্র রমযান মাসে এ সাধনা করার তৌফীক দিন, আমীন।

অনুবাদ ও ব্যাখ্যাঃ মাওলানা সালেহ আহমদ, মুরব্বী সিলসিলাহ্

উপরে চলুন