শ্রেষ্ঠ মহাপুরুষ - নিষ্ঠাবান বদরী সাহাবীগণ: হযরত উসমান বিন আফ্‌ফান (রা.)

রোজ শুক্রবার, ৫ই মার্চ, ২০২১ইং

জুমুআর খুতবার সারমর্ম

এই জুমু’আর খুতবার সারাংশটিতে কোনো প্রকার ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকলে তার দায়ভার আহ্‌মদীয়া বাংলা টীম গ্রহণ করছে।

আহমদীয়া মুসলিম জামা’তের বিশ্ব-প্রধান ও পঞ্চম খলীফাতুল মসীহ্‌ হযরত মির্যা মসরূর আহমদ (আই.) গত ৫ই মার্চ, ২০২১ইং ইসলামাবাদের মসজিদে মুবারকে প্রদত্ত জুমুআর খুতবায় পূর্বের ধারা অনুসরণে নিষ্ঠাবান বদরী সাহাবীদের বর্ণাঢ্য জীবনের স্মৃতিচারণ করেন। এ খুতবাতে হযরত উসমান বিন আফ্‌ফান (রা.)-এর স্মৃতিচারণ করেন।

তাশাহহুদ, তাআ’ব্বুয ও সূরা ফাতিহা পাঠের পর হুযূর (আই.) হযরত উসমান (রা.)’র বিরুদ্ধে সংঘটিত ষড়যন্ত্র ও বিদ্রোহ সম্পর্কে হযরত মুসলেহ্ মওউদ (রা.)’র বর্ণনার পরবর্তী অংশ তুলে ধরেন। মুসলেহ্ মওউদ (রা.) মূলতঃ তাবারী বর্ণিত ইতিহাসের আলোকে তাঁর ব্যক্তিগত গবেষণা, দৃষ্টিভঙ্গি ও বিশ্লেষণ তুলে ধরেছেন। তিনি (রা.) বর্ণনা করেন, মদীনাবাসীদের মধ্যে যে তিনজন বিদ্রোহীদের সাথে সহমত পোষণ করতেন তারা ছিলেন, মুহাম্মদ বিন আবু বকর, মুহাম্মদ বিন হুযায়ফা ও হযরত আম্মার বিন ইয়াসের; এরা ছাড়া মদীনায় আর কোন সাহাবী কিংবা অন্য কোন মুসলমানই সেই বিশৃঙ্খলাকারীদের প্রতি বিন্দুমাত্র সহানুভূতি রাখতেন না, বরং সবাই তাদের অভিসম্পাত করছিলেন। বিদ্রোহীরা বিশদিন পর্যন্ত কেবল বুলিসর্বস্ব হম্বিতম্বি করতে থাকে যেন কোনভাবে হযরত উসমান (রা.) নিজেই খিলাফতের দায়িত্ব ছেড়ে দেন। কিন্তু তিনি যখন সাফ সাফ জানিয়ে দেন, আল্লাহ্ তা’লা তাঁকে যে পোশাক পরিয়েছেন, তিনি নিজে সেটি কখনোই খুলবেন না, আর উম্মতে মুহাম্মদীয়াকেও এভাবে শত্রুদের হাতে অসহায় অবস্থায় পরিত্যাগ করবেন না- তখন বিদ্রোহীরা ভাবে, ‘দ্রুত কিছু একটা করা দরকার, নইলে অন্য প্রদেশগুলো থেকে মুসলিম-বাহিনী এসে পড়লে আমাদের আর নিস্তার নেই।’ এরা তখন হযরত উসমান (রা.)’র বাড়ি অবরোধ করে, এমনকি তাঁর বাড়িতে খাদ্য ও পানি প্রবেশেও বাধা দেয়। হযরত উসমান (রা.) বিদ্রোহীদের বুঝানোর সর্বাত্মক চেষ্টা করেছিলেন। তিনি (রা.) পরিতাপ করে এ-ও বলেছিলেন, “এখন তো এরা আমার প্রতি বিরূপ, কিন্তু যখন আমি আর থাকব না, তখন এরাই দুঃখ করবে যে ‘হায়, যদি হযরত উসমানের জীবনের একেকটি দিন একেকটি বছরে পরিণত হতো এবং তিনি এত দ্রুত আমাদের ছেড়ে না যেতেন!’ কারণ আমার পরে অজস্রধারায় রক্তপাত ঘটবে এবং মানুষের অধিকার পদদলিত হবে, আর গোটা ব্যবস্থা পাল্টে যাবে।” বস্তুত বনু উমাইয়ার যুগে খিলাফত রাজতন্ত্রে রূপান্তরিত হয় এবং এই বিদ্রোহীদের এমন চরম শাস্তি দেওয়া হয় যে, এরা নিজেদের সব শয়তানি ভুলে যায়। বিদ্রোহীদের মিসরীয় বাহিনীর নেতৃত্ব দিচ্ছিল গাফেকী; বসরার বিদ্রোহীদের নেতা হাকিম বিন জাবালা এবং কূফার বাহিনীর নেতা আশতার দু’জনই গাফেকীর কথামতো কাজ করছিল। এটি থেকে আবারও প্রমাণিত হয়, এই বিশৃঙ্খলার মূল ছিল মিসর, যেখানে আব্দুল্লাহ্ বিন সাবা ষড়যন্ত্র পাকাচ্ছিল। বিদ্রোহীরা শুধু খলীফার বাড়ি অবরোধ করেই ক্ষান্ত হয় নি, বরং মদীনাবাসীদের ওপরও তারা চড়াও হয়; যে-ই তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতো, তাকে তারা হত্যা করতো। ‘দারুল আমান’ বা শান্তিধাম মদীনা তখন ‘দারুল হারব’ বা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়! এমতাবস্থায় হযরত উসমান (রা.) তার এক প্রতিবেশীর ছেলেকে হযরত আলী (রা.), যুবায়ের (রা.), তালহা (রা.) এবং উম্মুল মু’মিনীনদের কাছে এই বার্তা দিয়ে পাঠান যে, ‘বিদ্রোহীরা তো আমাদের পানিও বন্ধ করে দিয়েছে, যদি সম্ভব হয় তো আপনারা কিছু করুন এবং আমাদের কাছে পানি পৌঁছানোর ব্যবস্থা করুন।’ এই বার্তা পাওয়ার পর পুরুষদের মধ্যে সর্বপ্রথম হযরত আলী (রা.) এগিয়ে আসেন ও বিদ্রোহীদেরকে বুঝানোর চেষ্টা করেন যে, তাদের কর্মকাণ্ড কেবল ইসলাম-বিরুদ্ধই নয়, বরং কাফির-মুশরিকদের কর্মের চেয়েও জঘন্য; রোম-পারস্যের কাফিররাও তাদের বন্দীদের অন্ততঃ পানি ও খাবার দেয়। হযরত আলী (রা.)’র কথায় তারা বিন্দুমাত্র ভ্রুক্ষেপ করে নি, বরং নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড় থাকে। অথচ এরাই হযরত আলী (রা.)-কে মহানবী (সা.)-এর প্রকৃত খলীফা আখ্যা দিত এবং তাঁর সমর্থনেই এসব করছে বলে বলতো; হযরত আলী (রা.)’র সাথে তাদের এই আচরণ প্রমাণ করে, তারা আদৌ হযরত আলী (রা.)’র পক্ষে কাজ করছিল না, বরং তারা নিজেদের প্রবৃত্তির বাসনা চরিতার্থ করার জন্য এসব করছিল।

উম্মুল মুমিনীনদের মধ্যে সর্বপ্রথম হযরত উম্মে হাবীবা (রা.) সাহায্যার্থে এগিয়ে আসেন। তিনি এক মশ্‌ক্ পানিও নিয়ে এসেছিলেন, তবে তার আসার প্রকৃত কারণ ছিল আরেকটি। বনু উমাইয়ার বিধবা ও এতীমদের ওসীয়্যতগুলো হযরত উসমান (রা.)’র কাছেই গচ্ছিত ছিল, উম্মে হাবীবা (রা.) ভয় পাচ্ছিলেন এগুলো না পাছে বিনষ্ট হয়। বিদ্রোহীরা তার পথরোধ করলে তিনি তার প্রকৃত উদ্দেশ্য জানান, কিন্তু তারা উল্টো তাকে ‘মিথ্যাবাদী’ আখ্যা দিয়ে তার বাহন গাধাটিকে মারধোর শুরু করে; এক পর্যায়ে তিনি পড়ে যাওয়ার উপক্রম হলে দ্রুত কয়েকজন মদীনাবাসী তাকে রক্ষা করেন এবং বাড়ি পৌঁছে দেন। মহানবী (সা.)-এর এত সম্মানিত সহধর্মিনী, যিনি এটা পর্যন্ত সহ্য করেন নি যে, তার মুশরিক পিতা মহানবী (সা.)-এর বিছানায় বা চাদরে বসুক, তার সাথে যখন এরা এমন জঘন্য আচরণ করে ও তাকে মিথ্যাবাদী আখ্যা দেয়ার ধৃষ্টতা দেখায়, তখন মদীনাবাসীরা বুঝে যায়; এদের কাছ থেকে আর ভাল কিছু আশা করা যায় না। হযরত আয়েশা (রা.) নিজের সম্মান রক্ষার্থে হজ্জে যাওয়ার সংকল্প করেন ও প্রস্তুতি শুরু করেন; তিনি বিশৃঙ্খলা প্রশমিত করার চেষ্টাস্বরূপ নিজের ভাই আব্দুল্লাহ্ বিন আবু বকরকে বলেন, ‘আমার সাথে হজ্জে চল।’ কিন্তু আব্দুল্লাহ্ অস্বীকৃতি জানায়। বিদ্রোহীদের নিরস্ত করা হযরত আয়েশা (রা.)’রও সাধ্যাতীত ছিল।

অবশেষে হযরত উসমান (রা.)ও বুঝতে পারেন, নরম কথায় এদের সাথে কোন কাজ হবে না; তিনি তখন সব প্রদেশের গভর্নরদের কাছে চিঠি পাঠান। চিঠিতে তিনি স্পষ্ট উল্লেখ করেন, খলীফা হবার বিন্দুমাত্র আকাক্সক্ষা না থাকা সত্ত্বেও আল্লাহ্ কীভাবে তাকে খলীফা বানিয়েছেন, আর তিনি প্রাক্তন খলীফাদের পদাঙ্ক অনুসারেই কাজ করে গিয়েছেন, তবুও কিছু মানুষ দুরভিসন্ধিমূলকভাবে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা রটনা করেছে এবং তাঁর ক্ষমা ও দয়ার অন্যায় সুযোগ নিয়ে অপরাধে আরও ধৃষ্ট হয়েছে, অবশেষে কাফিরদের মত মদীনার ওপর আক্রমণ করে বসেছে। এমতাবস্থায় মুসলমানদের উচিত- সম্ভব হলে তারা যেন মদীনার সাহায্যার্থে এগিয়ে আসে। অনুরূপভাবে তিনি হজ্জের জন্য সমাগতদের উদ্দেশ্যেও একটি চিঠি পাঠান। সেই চিঠিতে কুরআনের বিভিন্ন আয়াতের আলোকে বিদ্রোহীদের কর্মকা- যে ইসলামের রীতি ও নীতিবিরুদ্ধ- তা তিনি সবিস্তারে বর্ণনা করেন। তিনি আরও লিখেন, বিদ্রোহীরা মুসলিম উম্মাহকে ধ্বংস করতে চায়, এটি ছাড়া তাদের আর কোন উদ্দেশ্য নেই! কারণ হযরত উসমান (রা.) তাদের কথা মেনে নিয়ে গভর্নরদের পরিবর্তন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন; কিন্তু তবুও তারা তাদের অপকর্ম বন্ধ করে নি। এখন তারা তাদের তিনটি দাবীর মধ্য থেকে একটি পূরণ করতে বলছে; প্রথম দাবী হল, হযরত উসমান (রা.)’র খিলাফতকালে যারা শৃঙ্খলাভঙ্গের অপরাধে শাস্তি পেয়েছে, তাদের সবার কিসাস বা প্রতিশোধ তারা তাঁর কাছ থেকে নিতে চায়। দ্বিতীয় দাবী হল, হযরত উসমান (রা.) যেন খিলাফতের দায়িত্ব হতে ইস্তফা দিয়ে দেন, তারা তাঁর পরিবর্তে তাদের মনমতো কাউকে খলীফা বানাবে। তৃতীয়তঃ যদি খলীফা এটিও না মানেন, তাহলে তারা হুমকি দিচ্ছে যে, তাদের সমমনা সবাইকে বলবে- তারা যেন হযরত উসমান (রা.)’র বয়আত থেকে বেরিয়ে যায় বা তাঁর আনুগত্য পরিহার করে। হযরত উসমান (রা.) এগুলোর উপযুক্ত উত্তরও দিয়েছেন সেই চিঠিতে। তাদের প্রথম দাবীর উদ্দেশ্য হযরত উসমান (রা.)-কে হত্যা করা ছাড়া আর কিছুই না, তারা তাঁর রক্তপিপাসু; নতুবা তাঁর পূর্বের খলীফারা কখনোই এরূপ কোন সিদ্ধান্তের জন্য ‘কিসাস’ নেয়ার সুযোগ দেন নি। দ্বিতীয় দাবীর প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, বিদ্রোহীরা যদি তাকে টুকরো টুকরোও করে ফেলে, তবুও তিনি খিলাফতের দায়িত্বে ইস্তফা দিতে পারেন না; এই দায়িত্ব তাঁকে আল্লাহ্ দিয়েছেন। তৃতীয় দাবী বা হুমকির জবাবে তিনি (রা.) লিখেন, তিনি তো জোর করে তাদের কাছ থেকে বয়আত নেন নি, তারা স্বেচ্ছায় বয়আত করেছিল; এখন যদি তারা এই ঐশী অঙ্গীকার ভঙ্গ করতে চায়, তবে করুক। হযরত উসমান (রা.) হযরত ইবনে আব্বাসের হাতে এই বার্তা পাঠান, যাকে তিনি সে বছর হজ্জের আমীর হিসেবে প্রেরণ করেছিলেন; ইবনে আব্বাস যদিও এই বিদ্রোহীদের সাথে লড়াই করতে অধিক আগ্রহী ছিলেন, কিন্তু হযরত উসমান (রা.) জোর করে তাকে হজ্জে পাঠান যেন বিশৃঙ্খলাকারীরা হাজীদের মধ্যে নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে না পারে। বিদ্রোহীরা তো সাহাবীদেরকেও হযরত উসমান (রা.)’র কাছে যেতে দিচ্ছিল না। এমন পরিস্থিতিতে বয়োজ্যেষ্ঠ সাহাবীরা সাধারণ মানুষকে বুঝানোর কাজে ব্যাপৃত ছিলেন, আর যুবক ও তরুণ সাহাবীরা হযরত উসমান (রা.)’র নিরাপত্তা বিধানের চেষ্টায় ব্যাপৃত ছিলেন। প্রথমোক্ত দলের মধ্যে হযরত আলী ও হযরত সা’দ বিন ওয়াক্কাস (রা.)’র ভূমিকা সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য; আর তরুণদের দলে হযরত আলী, তালহা ও যুবায়ের (রা.)’র পুত্ররা ছাড়া সাহাবীদেরও কেউ কেউ ছিলেন। বিদ্রোহীরা কোন একটি ছুতো দেখিয়ে হযরত উসমান (রা.)-কে হত্যা করতে চাইছিল, বিনা অজুহাতে তারা আক্রমণ করতে পারছিল না। সেই সময়ের ঘটনাক্রম থেকে ইসলামের প্রতি হযরত উসমান (রা.)’র শুভাকাক্সক্ষা যেভাবে প্রতিভাত হয়, তা দেখে আশ্চর্য হতে হয়! বিদ্রোহীদের প্রায় তিন হাজার সৈন্য তাঁর বাড়ির দরজায় দাঁড়িয়ে রয়েছে, আর তাদের হাত থেকে বাঁচার কোন উপায় নেই; কিন্তু তা সত্ত্বেও যারা তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা করতে চাইছিলেন, তাদেরকেও তিনি বারণ করছিলেন যে, ‘ফিরে যাও, আমার জন্য নিজেদের প্রাণ বিপদের মুখে ঠেলে দিও না!’ ইসলামের সামনে যে কঠিন দিন আসতে যাচ্ছে, তা তিনি মানসচক্ষে দেখতে পাচ্ছিলেন। তিনি জানতেন, সেই সময় ইসলামকে রক্ষা করার ও পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য একেকজন সাহাবীর প্রয়োজন হবে; তাই তিনি চাইছিলেন না যে, তাকে বাঁচানোর অনর্থক চেষ্টায় সাহাবীদের প্রাণ যাক। কিন্তু সাহাবীরা খলীফার নিরাপত্তা বিধানের কর্তব্য পালনে ক্ষান্ত দিতে প্রস্তুত ছিলেন না, তারা নিষেধ সত্ত্বেও পাহারা দিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু অবশেষে বিদ্রোহীরা তাদের কাক্সিক্ষত ছুতো পেয়ে যায়! হাজীদের কাছে যখন খলীফার চিঠি পড়ে শোনানো হয়, তখন তাদের মধ্যে এক জোয়ার সৃষ্টি হয় এবং তারা হজ্জ শেষ করেই মদীনায় এসে জিহাদে অংশগ্রহণের সংকল্প করেন। গুপ্তচরদের সংবাদের ভিত্তিতে বিদ্রোহীরা বুঝতে পারে, এখনই হযরত উসমানকে হত্যা না করলে তাদের আর রক্ষে নেই। তাই তারা হযরত উসমান (রা.)’র বাড়িতে আক্রমণ করে বসে, কিন্তু পাহারায় রত সাহাবীরা তাদের প্রতিহত করলে লড়াই বেধে যায়; কয়েকজন সাহাবী প্রচ- আহত হন এবং হযরত মুগীরা বিন আখনাস শাহাদত বরণ করেন। এতকিছুর পরও এবং হযরত উসমান (রা.)’র বারংবার নিষেধ সত্ত্বেও সাহাবীদের ছোট্ট একটি দল সর্বদাই তাঁর বাড়ির প্রহরায় থেকে যান। হুযূর (আই.) বলেন, এই স্মৃতিচারণের ধারা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে, ইনশাআল্লাহ্।

খুতবার শেষদিকে হুযূর (আই.) পুনরায় পাকিস্তান ও আলজেরিয়ার আহমদীদের জন্য দোয়ার আহ্বান জানান; আল্লাহ্ তা’লা বিরুদ্ধবাদীদের অত্যাচারের দ্রুত অবসান ঘটান এবং আহমদীদের জন্য স্বাচ্ছন্দ্য সৃষ্টি করুন, (আমীন)। একইসাথে হুযূর (আই.) সম্প্রতি প্রয়াত কয়েকজন নিষ্ঠাবান আহমদীর গায়েবানা জানাযা পড়ানোরও ঘোষণা দেন। তারা হলেন যথাক্রমে, নায়েব নাযের দাওয়াত ইলাল্লাহ্ ভারত, মোকাররম মৌলভী মুহাম্মদ নজীব খান সাহেব, দ্বিতীয় পাকিস্তানের নাযির আহমদ খাদেম সাহেব, তৃতীয় ঘানার মোকাররম আলহাজ্জ ড. নানা মোস্তফা এটিবটিং সাহেব এবং চতুর্থ রাবওয়ার মোকাররম গোলাম নবী সাহেব। হুযূর তাদের সংক্ষিপ্ত স্মৃতিচারণে তাদের অসাধারণ ধর্মসেবা এবং অনন্য গুণাবলীর বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন এবং তাদের রূহের মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করে দোয়া করেন। (আমীন)

Top