শ্রেষ্ঠ মহাপুরুষ - নিষ্ঠাবান বদরী সাহাবীগণ: হযরত উসমান বিন আফ্‌ফান (রা.)

রোজ শুক্রবার, ২২শে জানুয়ারি, ২০২১ইং

জুমুআর খুতবার সারমর্ম

এই জুমু’আর খুতবার সারাংশটিতে কোনো প্রকার ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকলে তার দায়ভার আহ্‌মদীয়া বাংলা টীম গ্রহণ করছে।

আহমদীয়া মুসলিম জামা’তের বিশ্ব-প্রধান ও পঞ্চম খলীফাতুল মসীহ্‌ হযরত মির্যা মসরূর আহমদ (আই.) গত ২২শে জানুয়ারী, ২০২১ইং ইসলামাবাদের মসজিদে মুবারকে প্রদত্ত জুমুআর খুতবায় পূর্বের ধারা অনুসরণে নিষ্ঠাবান বদরী সাহাবীদের বর্ণাঢ্য জীবনের স্মৃতিচারণ করেন। এ খুতবাতে হযরত উসমান বিন আফ্‌ফান (রা.)-এর স্মৃতিচারণ করেন।

তাশাহহুদ, তাআ’ব্বুয ও সূরা ফাতিহা পাঠের পর হুযূর (আই.) বলেন, আজ আমি হযরত উসমান (রা.)’র স্মৃতিচারণ আরম্ভ করছি এবং তা আগামী কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত চলবে, ইনশাআল্লাহ্। হযরত উসমান (রা.) সম্পর্কে প্রথমতঃ এ বিষয়টি স্মরণ রাখতে হবে যে, তিনি স্বয়ং বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন নি, তবে তিনি সেই আটজন সৌভাগ্যবান সাহাবীদের একজন ছিলেন যাদেরকে মহানবী (সা.) বদরের যুদ্ধের যুদ্ধলদ্ধ সম্পদের অংশীদার করে যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যেই গণ্য করেছেন। তার পুরো নাম উসমান বিন আফফান বিন আবুল আস বিন উমাইয়া বিন আবদে শামস বিন আবদে মানাফ বিন কুসাই বিন কিলাব, এভাবে তার বংশতালিকা পঞ্চম পূর্ব-পুরুষ আবদে মানাফে গিয়ে মহানবী (সা.)-এর বংশতালিকার সাথে একীভূত হয়ে যায়। তাঁর মায়ের নাম ছিল আরওয়া বিনতে কুরায়য, তার নানী উম্মে হাকীম বায়যা বিনতে আব্দুল মুত্তালিব মহানবী (সা.)-এর পিতা হযরত আব্দুল্লাহ্‌র আপন বোন ছিলেন; কতক বর্ণনামতে বায়যা ও আব্দুল্লাহ্ জময জন্মগ্রহণ করেছিলেন। হযরত উসমান (রা.)’র মা হুদাইবিয়ার সন্ধির পর ইসলাম গ্রহণ করেন এবং মক্কা থেকে হিজরত করে মদীনায় গমন করেন; আর তিনি নিজ পুত্রের খিলাফতকালে মৃত্যুবরণ করার আগ পর্যন্ত মদীনাতেই ছিলেন। তার পিতা অজ্ঞতার যুগেই মৃত্যুবরণ করেছিলেন। হযরত উসমান (রা.) আবু আমর, আবু আব্দুল্লাহ্, যুন্-নূরাঈন এসব ডাকনামেও অভিহিত হতেন। নবী-তনয়া হযরত রুকাইয়া (রা.)’র গর্ভে তাঁর পুত্র আব্দুল্লাহ্ জন্মগ্রহণ করেছিলেন, যে কারণে তাকে আবু আব্দুল্লাহ্ নামেও ডাকা হতো। আর যেহেতু রুকাইয়া (রা.)’র মৃত্যুর পর নবী-তনয়া উম্মে কুলসুম (রা.)-কে তিনি বিয়ে করেছিলেন, সে কারণে তাকে যুন-নূরাঈন বা দু’টি জ্যোতির অধিকারী নামে ডাকা হতো; অবশ্য এই নামকরণ প্রতিরাতে তাঁর অনেক দীর্ঘ তাহাজ্জুদ ও কুরআন তিলাওয়াতের কারণেও হতে পারে।

হযরত উসমান (রা.) হস্তী-বাহিনীর ঘটনার ছ’বছর পর মক্কা বা মতান্তরে তায়েফে জন্মগ্রহণ করেন এবং তিনি মহানবী (সা.)-এর চেয়ে প্রায় বছর পাঁচেক ছোট ছিলেন। হযরত উসমান (রা.)’র ইসলাম গ্রহণ করার ইতিহাস সম্পর্কে জানা যায়, ইসলামের প্রারম্ভিক যুগে একদিন হযরত উসমান ও হযরত তালহা দু’জন একসাথে হযরত যুবায়ের বিন আওয়াম (রা.)’র সাথে গিয়ে মহানবী (সা.)-এর সমীপে উপস্থিত হন; তিনি (সা.) তাদের দু’জনের কাছে ইসলামের পরিচয় তুলে ধরেন এবং তাদেরকে কুরআনের বাণী পাঠ করে শোনান, তখন তারা দু’জন একসাথে ইসলাম গ্রহণ করেন। হযরত উসমান (রা.) দ্বারে আরকাম যুগের পূর্বেই ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। ইসলাম গ্রহণের কারণে তাকে অনেক অত্যাচারও সইতে হয়েছে। তার চাচা হাকাম বিন আবুল আস বিন উমাইয়্যা তাকে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখে এবং হুমকি দেয়, যদি তিনি ইসলাম পরিত্যাগ না করেন তবে তাঁকে ছাড়া হবে না। কিন্তু প্রত্যুত্তরে উসমান (রা.) বলেন, খোদার কসম! আমি কখনই ইসলাম পরিত্যাগ করব না আর এত্থেকে বিচ্ছিন্নও হবো না। ইসলামের প্রতি তাঁর সুদৃঢ় বিশ্বাস দেখে হাকাম আশ্চর্য হয়ে যায় এবং নিরুপায় হয়ে তাকে মুক্ত করে দেয়।

মহানবী (সা.)-এর নবুয়্যত লাভের পূর্বে তার দুই কন্যা হযরত রুকাইয়া ও উম্মে কুলসুমের বিয়ের ঘোষণা আবু লাহাবের পুত্র উতবা ও উতায়বার সাথে হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু যখন সূরা লাহাব অবতীর্ণ হয়, তখন আবু লাহাব সেই বিয়েতে বাদ সাধে এবং রুখসাতানার পূর্বেই বিয়ে ভেঙে যায় বা তালাক হয়ে যায়। এমতাবস্থায় হযরত উসমান (রা.) হযরত রুকাইয়া (রা.)-কে বিয়ে করেন। তাঁরা দু’জন এক আদর্শ দম্পতি ছিলেন, এমনকি কথিত আছে, লোকদের দেখা সর্বোত্তম ও সুন্দর জুটি ছিল হযরত রুকাইয়া ও উসমান (রা.) দম্পতি। একদিন মহানবী (সা.) মেয়ের বাড়ি গিয়ে দেখেন, মেয়ে হযরত উসমান (রা.)’র মাথা ধুয়ে দিচ্ছেন। মহানবী (সা.) তাকে বলেন, ‘হে আমার কন্যা! আবু আব্দুল্লাহ্‌র সাথে সবসময় এরূপ সদ্ব্যবহার করে যাবে, কারণ আমার সাহাবীদের মধ্যে চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে তিনিই সবচেয়ে বেশি আমার সাথে সাদৃশ্য রাখেন।’

মুসলমানরা ইসলাম গ্রহণের কারণে মক্কায় চরম অত্যাচার ও কষ্টের মাঝে দিনাতিপাত করছিলেন। মহানবী (সা.) তখন সাহাবীদের আবিসিনিয়ায় হিজরত করার পরামর্শ দেন এবং হযরত উসমান (রা.) পরামর্শ অনুসারে আবিসিনিয়ায় হিজরত করেন; তাঁর সাথে নবী-তনয়া হযরত রুকাইয়া (রা.)ও হিজরত করেন। মহানবী (সা.) তাদের নিয়ে খুব উদ্বিগ্ন ছিলেন, যখন তিনি সংবাদ পান, তারা ঠিকভাবে হিজরত করতে পেরেছেন তখন বলেন, হযরত লূতের পর হযরত উসমান সেই প্রথম ব্যক্তি, যিনি নিজ পরিবারসহ আল্লাহ্‌র পথে হিজরত করেছেন। হযরত উসমান ও রুকাইয়া (রা.) কয়েক বছর সেখানে অবস্থান করেন। কতিপয় বর্ণনামতে হযরত উসমান (রা.) আবিসিনিয়ার দ্বিতীয় হিজরতেও অংশগ্রহণ করেছিলেন, অবশ্য এ বিষয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে দ্বিমত রয়েছে। বস্তুতঃ আবিসিনিয়ার দ্বিতীয় হিজরত প্রসঙ্গটিতেই অনেক ইতিহাসবিদের দ্বিমত রয়েছে। এ সম্পর্কে সাহেবযাদা হযরত মির্যা বশীর আহমদ সাহেব (রা.)’র যে গবেষণালদ্ধ অভিমত রয়েছে, হুযূর (আই.) তা সবিস্তারে উদ্ধৃত করেন। তিনি (রা.) আবিসিনিয়া বা ইথিওপিয়ায় হিজরতের প্রেক্ষাপটসহ ব্যাখ্যা করেছেন, কোন পরিস্থিতিতে এবং কী কারণে মহানবী (সা.) সাহাবীদেরকে সেখানে হিজরত করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। সেটি যদিও একজন খ্রিস্টান সম্রাটের রাজত্ব ছিল, কিন্তু সেদেশে ধর্মের কারণে কারও ওপর অত্যাচার করা হতো না, সেখানে পুরো ধর্মীয় স্বাধীনতা বিরাজমান ছিল। আবিসিনিয়ার সম্রাটের উপাধি নাজ্জাশি ছিল এবং তৎকালীন নাজ্জাশির নাম ছিল আসহামা। প্রথম ধাপে এগারজন মুসলিম পুরুষ ও চারজন নারী সেখানে হিজরত করেছিলেন, যাদের মধ্যে হযরত উসমান (রা.) ও হযরত রুকাইয়া (রা.)ও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। হিজরতকারীরা সবাই মক্কার প্রভাবশালী বিভিন্ন পরিবারের সদস্য ছিলেন। তাদের হিজরত করা থেকে দু’টি বিষয় অনুমান করা যায়; প্রথমতঃ অত্যন্ত সম্ভ্রান্ত ও প্রভাবশালী পরিবারের সদস্যরাও ইসলাম গ্রহণের কারণে মুশরিকদের অত্যাচার থেকে নিরাপদ ছিলেন না, দ্বিতীয়তঃ যারা দুর্বল ও অসহায় মুসলমান ছিল, তাদের পক্ষে হিজরত করার মত সামর্থ্যই ছিল না। ধীরে ধীরে আবিসিনিয়ায় হিজরতকারীদের সংখ্যা বাড়তে থাকে, এমনকি তা একশ’ একজনে গিয়ে পৌঁছে, যাদের মধ্যে আঠারজন নারীও ছিলেন।

আবিসিনিয়ায় দ্বিতীয় হিজরত সম্পর্কে যে বর্ণনা পাওয়া যায়, সে অনুসারে মক্কার কুরাইশরা আবিসিনিয়ায় হিজরতকারী মুসলমানদের একথা বলে ধোঁকা দিয়েছিল যে, মক্কায় সবাই মুসলমান হয়ে গিয়েছে; একথা শুনে তারা ফিরে আসেন এবং মক্কার কাছাকাছি পৌঁছে বুঝতে পারেন, খবরটি মিথ্যা ছিল। তখন পুনরায় তারা আবিসিনিয়ায় হিজরত করেন আবার অনেকে মক্কার সম্ভ্রান্ত লোকের ছত্রচ্ছায়ায় মক্কায় বসবাস আরম্ভ করেন। হযরত মির্যা বশীর আহমদ সাহেব (রা.)’র মতে, যদি ইতিহাস গভীর দৃষ্টিতে পযালোচনা করা হয়, তবে এরূপ গুজব রটনার এবং মুসলমানদের সেই গুজবে ফিরে আসার ঘটনাটিই ভিত্তিহীন, অবাস্তব ও অযৌক্তিক সাব্যস্ত হয়। সম্ভবতঃ যা ঘটেছিল তা হল, মহানবী (সা.)-এর ওপর যখন সূরা নজম অবতীর্ণ হয় এবং তিনি কা’বা চত্বরে গিয়ে এই সূরা উচ্চস্বরে তিলাওয়াত করেন যাতে আল্লাহ্ তা’লার একত্ববাদ, তাঁর শক্তি ও ক্ষমতার দৃঢ় ঘোষণা ছিল এবং কুরাইশদের জন্য সতর্কবাণীও ছিল যে, তারা তাদের অস্বীকারের মাধ্যমে পূর্ববর্তী নবীদের অস্বীকারকারী জাতির অনুরূপ করুণ পরিণতি বরণ করতে যাচ্ছে; এছাড়া সূরার শেষে এক-অদ্বিতীয় আল্লাহ্‌কে সিজদা করারও নির্দেশ ছিল। মহানবী (সা.) এবং তাঁর সাথে উপস্থিত সাহাবীরা তখন সিজদায় পতিত হন, আর তাদের দেখাদেখি সেখানে উপস্থিত শীর্ষস্থানীয় কুরাইশ নেতারাও এই ঐশী বাণীর প্রভাবে মন্ত্রমুগ্ধের মত সিজদায় প্রণত হয়েছিল। হয়তো মহানবী (সা.)-এর সাথে এদের সিজদা করতে দেখে কেউ কেউ ভেবে নিয়েছিল, কুরাইশরা ইসলাম গ্রহণ করে নিয়েছে। বাস্তবে কিন্তু বিষয়টি আদৌ এরূপ ছিল না, বরং এরপরও তারা তাদের অত্যাচার ও বিরোধিতা অব্যাহত রাখে। তাছাড়া সময়ের দৃষ্টিকোণ থেকেও এটি অযৌক্তিক ও অসম্ভব যে, এই ঘটনার কারণে সাহাবীরা আবিসিনিয়া থেকে ফিরে এসেছিলেন; কারণ আবিসিনিয়ায় হিজরত, এই ঘটনা এবং মক্কা থেকে আবিসিনিয়ার দূরত্ব বিবেচনায় এই স্বল্প সময়ে মধ্যে তিনবার সফর করা (অর্থাৎ, একবার আবিসিনিয়ায় যাওয়া, গুজবে কান দিয়ে ফিরে আসা আবার ফিরে যাওয়া) কোনভাবেই সম্ভবপর বা যৌক্তিক নয়।

হযরত উসমান (রা.) ও রুকাইয়া (রা.) আবিসিনিয়া থেকে মক্কায় ফিরে আসার পর কিছুদিন মক্কায়-ই অবস্থান করেন, অতঃপর মদীনায় হিজরতের নির্দেশ এলে তাঁরা মদীনায় হিজরত করেন। মদীনায় হিজরতের পর হযরত উসমান (রা.) বনু নাজ্জার গোত্রে হযরত হাসসান বিন সাবেতের ভাই অওস বিন সাবেতের বাড়িতে ওঠেন। মহানবী (সা.) হযরত আব্দুর রহমান বিন অওফ (রা.)’র সাথে তার ভ্রাতৃত্ব সম্পর্ক স্থাপন করেছিলেন, অবশ্য বিভিন্ন বর্ণনায় তার ধর্মভাই হিসেবে অপর কয়েকজন সাহাবীর নামও পাওয়া যায়। এক বর্ণনামতে মহানবী (সা.) স্বয়ং তাঁকে নিজের ভাই বলে আখ্যা দেন; হযরত উসমান (রা.) স্বয়ং এই দাবী করেন এবং হযরত তালহা (রা.) তাঁর এই দাবীকে সঠিক বলে সাক্ষ্য প্রদান করেন। যখন মহানবী (সা.) বদরের যুদ্ধের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন, তখন হযরত উসমান (রা.)-কে হযরত রুকাইয়ার সেবা-শুশ্রূষার জন্য রেখে যান, কারণ রুকাইয়া (রা.) তখন প্রচণ্ড অসুস্থ ছিলেন। হযরত যায়েদ বিন হারেসাহ্ (রা.) যেদিন বদরের যুদ্ধ বিজয়ের সুসংবাদ নিয়ে মদীনায় ফিরে আসেন, সেদিনই হযরত রুকাইয়া (রা.) মৃত্যুবরণ করেন। এরপর হযরত জিব্রাঈল মহানবী (সা.)-কে অবগত করেন, ঐশী অভিপ্রায় হল হযরত উম্মে কুলসুমকে যেন হযরত উসমানের সাথে বিয়ে দেয়া হয়; অতঃপর তাদের বিয়ে হয়। তিনি হযরত উসমান (রা.)’র সাথে নবম হিজরী পর্যন্ত ছিলেন, এরপর তিনিও অসুস্থতার কারণে মৃত্যুবরণ করেন। মহানবী (সা.) বলেছিলেন, তাঁর যদি তৃতীয় আরেকজন কন্যা থাকতো, তবে তাকেও তিনি হযরত উসমানের সাথে বিয়ে দিতেন। এক বর্ণনানুসারে মহানবী (সা.) একদিন হযরত উসমান (রা.)-কে অশ্রুসিক্ত নয়নে উম্মে কুলসুম (রা.)’র কবরের পাশে বসে থাকতে দেখে ক্রন্দনের কারণ জিজ্ঞেস করেন। উসমান (রা.) উত্তরে বলেন, মহানবী (সা.)-এর সাথে তার যে জামাতা-শ্বশুরের সম্পর্ক ছিল তা শেষ হয়ে গেল, সেই বেদনায় তিনি কাঁদছেন। নবীজী (সা.) তখন বলেন, যদি তার একশ’ কন্যাও থাকতো এবং তারা সবাই একের পর হযরত উসমানের সাথে বিয়ের পর মৃত্যুবরণ করতেন, তবে তিনি (সা.) একে একে তার সকল কন্যাকেই উসমানের সাথে বিয়ে দিতেন। এভাবে তিনি (সা.) হযরত উসমানকে তাদের মধ্যকার আত্মীয়তার সম্পর্ক অবিচ্ছিন্ন ও অটুট থাকার বিষয়ে আশ্বস্ত করেন। হুযূর (আই.) বলেন, হযরত উসমান (রা.)’র স্মৃতিচারণ আগামী খুতবাতেও অব্যাহত থাকবে, (ইনশাআল্লাহ্)।

এরপর হুযূর (আই.) পুনরায় বিশেষভাবে পাকিস্তান, আলজেরিয়া এবং অন্যান্য যেসব স্থানে আহমদীয়াতের বিরোধিতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, সেখানকার আহমদীদের নিরাপত্তা ও মুক্তির জন্য দোয়ার আহ্বান জানান; আল্লাহ্ তা’লা প্রতিটি স্থানে প্রত্যেক আহমদীকে সবদিক থেকে নিরাপদ রাখুন, আমীন।

খুতবার শেষদিকে হুযূর (আই.) সম্প্রতি প্রয়াত জামাতের কয়েকজন নিষ্ঠাবান ও বুযুর্গ সদস্যের গায়েবানা জানাযা পড়ানোর ঘোষণা দেন ও তাদের সংক্ষিপ্ত স্মৃতিচারণ করেন। তারা হলেন, জামাতের বিশিষ্ট বুযুর্গ মোকাররম মওলানা সুলতান মাহমুদ আনওয়ার সাহেব, মওলানা মুহাম্মদ উমর সাহেব, মোকাররম হাবীব আহমদ সাহেব, মোকাররম বদরুজ্জামান সাহেব, মোকাররম মনসুর আহমদ তাহসীন সাহেব, মোকাররম ডা. ইদী ইব্রাহিম সাহেব, মোকাররমা সুগরা বেগম সাহেবা, মোকাররম চৌধুরী কেরামতউল্লাহ্ সাহেব, মোকররম চৌধুরী মুনাওয়ার আহমদ খালেদ সাহেব, মোকাররমা নাসিরা বেগম সাহেবা এবং মোকাররম রফীউদ্দীন বাট সাহেব। হুযূর (আ.) সকল মরহুমের রূহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাদের মর্যাদা উন্নত হওয়ার জন্য দোয়া করেন। তিনি তাদের অসংখ্য গুণাবলী তুলে ধরেন এবং তাদের সন্তানরা যাতে এসব গুণ ও পুণ্য ধরতে রাখতে সক্ষম হয় সেজন্য দোয়া করেন, (আমীন)।

Top