শ্রেষ্ঠ মহাপুরুষ - নিষ্ঠাবান বদরী সাহাবীগণ: হযরত উসমান বিন আফ্‌ফান (রা.)

রোজ শুক্রবার, ২রা এপ্রিল, ২০২১ইং

জুমুআর খুতবার সারমর্ম

এই জুমু’আর খুতবার সারাংশটিতে কোনো প্রকার ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকলে তার দায়ভার আহ্‌মদীয়া বাংলা টীম গ্রহণ করছে।

আহমদীয়া মুসলিম জামা’তের বিশ্ব-প্রধান ও পঞ্চম খলীফাতুল মসীহ্‌ হযরত মির্যা মসরূর আহমদ (আই.) গত ২রা এপ্রিল, ২০২১ইং ইসলামাবাদের মসজিদে মুবারকে প্রদত্ত জুমুআর খুতবায় পূর্বের ধারা অনুসরণে নিষ্ঠাবান বদরী সাহাবীদের বর্ণাঢ্য জীবনের স্মৃতিচারণ করেন। এ খুতবায় হযরত উসমান (রা.)’র স্মৃতিচারণের ধারা অব্যাহত রাখেন।

তাশাহহুদ, তাআ’ব্বুয ও সূরা ফাতিহা পাঠের পর হুযূর (আই.) বলেন, বিগত খুতবার পূর্বে হযরত উসমানের স্মৃতিচারণ করা হচ্ছিল, আজও তা অব্যাহত থাকবে। হযরত উসমানের মাঝে চারিত্রিক পবিত্রতা ও লজ্জাশীলতা অনেক বেশি ছিল। হযরত আনাস বর্ণিত হাদীস থেকে মহানবী (সা.)-এর নিজ সাহাবীদের সম্পর্কে তাদের একেকজনের একেকটি উৎকর্ষের ব্যাপারে জানা যায়; উক্ত হাদীসে মহানবী (সা.) হযরত উসমান সম্পর্কে মন্তব্য করেন যে তাঁর উম্মতের সবচেয়ে লজ্জাশীল ব্যক্তি হলেন হযরত উসমান। হযরত উসমান স্বয়ং একথা বলেন যে ‘আমি কখনও বেপরোয়া আচরণও করি নি, কখনও আকাঙক্ষাও করি নি।’ হুযূর (আই.) ব্যাখ্যা করেন, অর্থাৎ তিনি কখনও খিলাফত বা অন্য কোন পদ লাভের বা কোন মিথ্যা প্রশংসার আকাঙক্ষা করেন নি। হযরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন যে মহানবী (সা.) তার কক্ষে শুয়ে ছিলেন, তাঁর হাঁটু বা পায়ের উপর থেকে কাপড় সরে গিয়েছিল। এমন সময় হযরত আবু বকর ভেতরে আসার অনুমতি চাইলে মহানবী (সা.) ঐ অবস্থাতেই তাকে আসার অনুমতি দেন। তারা দু’জন কথা বলতে থাকেন; ইতোমধ্যেই হযরত উমরও ভেতরে আসার অনুমতি চান, মহানবী (সা.) তাকেও অনুমতি দেন। এরপর হযরত উসমান যখন আসেন ও ভেতরে প্রবেশের অনুমতি চান, মহানবী (সা.) উঠে বসেন এবং নিজের পোশাক ঠিকঠাক করেন, তারপর তাকে ভেতরে আসতে বলেন। তিনি চলে যাওয়ার পর হযরত আয়েশা (রা.) মহানবী (সা.)-কে প্রশ্ন করেন যে আবু বকর ও উমরের আগমনে মহানবী (সা.) কোন প্রস্তুতি নেন নি, যেভাবে ছিলেন সেভাবেই তাদের ভেতরে আসতে দিয়েছেন; কিন্তু হযরত উসমানের শব্দ পেয়ে তিনি (সা.) সাথে সাথে উঠে বসেছেন এবং পোশাক ঠিকঠাক করে তারপর দেখা করেছেন, এর কারণ কী? উত্তরে মহানবী (সা.) বলেন, ‘আমি কি সেই ব্যক্তিকে লজ্জা করব না, যাকে ফেরেশতারাও লজ্জা পান? সেই সত্ত্বার শপথ যাঁর হাতে মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রাণ, নিশ্চয় ফেরেশতারা উসমানকে সেভাবেই লজ্জা পায়, যেভাবে সেই ফেরেশতারা আল্লাহ্ ও তাঁর রসূল (সা.)-কে লজ্জা পায়! যদি উসমান ভেতরে আসতো এবং তুমি আমার কাছেই থাকতে, তাহলে সে ফিরে যাওয়া পর্যন্ত একবারও মাথা তুলে তাকাতো না, কিংবা একটা কথাও বলতো না।’

হযরত মুসলেহ্ মওউদ (রা.) আল্লাহ্ তা’লার গুণবাচক নাম ‘করীম’ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে হযরত উসমানের এই ঘটনাটি বর্ণনা করেন। হযরত উসমানের ক্ষেত্রে মহানবী (সা.)-এর লজ্জা অবলম্বনের ঘটনা থেকে তিনি (রা.) সিদ্ধান্ত প্রদান করেন, যিনি ‘করীম’ গুণের অধিকারী, তাকে লজ্জা করতে হয়; হযরত উসমান যেহেতু মানুষজনকে লজ্জা করতেন, তাই মহানবী (সা.)-ও তাকে লজ্জা করেছেন। খোদা তা’লা যেহেতু করীম, তাই মানুষের পাপ থেকে বাঁচার, পাপ এড়িয়ে চলার চেষ্টা করা উচিত, তাঁর সামনে পাপ করতে লজ্জা বোধ করা উচিত, তাঁর আদেশ মান্য উচিত। এটা যেন না হয় যে আল্লাহ্ তা’লা করীম বলে মানুষ পাপে ধৃষ্ট হয়ে যায় আর ভাবে- ‘আল্লাহ্ তা’লা তো করীম, আমরা পাপ করলেও সমস্যা নেই; তিনি দয়া করবেন, আমাদের ক্ষমা করে দেবেন!’

হযরত উসমানের সরলতা ও আড়ম্বরহীনতা সম্পর্কে আব্দুল্লাহ্ রূমীর একটি বর্ণনা সুপ্রসিদ্ধ। তিনি বলেন, হযরত উসমান রাতের বেলা নিজেই ওযু করার ব্যবস্থা করে নিতেন। তার কাছে নিবেদন করা হয়, তিনি কোন ভৃত্যকে এর ব্যবস্থা করতে বললে সে সানন্দে তা করবে। কিন্তু তিনি এই প্রস্তাব নাকচ করে দিয়ে বলেন, ‘না! রাত তো তাদের নিজের জন্য, যখন তারা বিশ্রাম নেয়।’ একবার হযরত উসমান মিম্বরে দাঁড়িয়ে মুসলমানদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন, তাদেরকে খুব শক্তভাবে কোন বিষয়ে সতর্ক করেন ও আল্লাহ্কে ভয় করার কথা স্মরণ করান। তখন হযরত আমর বিন আস তাকে বলেন, ‘হে উসমান, আপনি এই উম্মতকে অনেক কঠিন কথার সম্মুখীন করেছেন! তাই আপনিও তওবা করুন, আর তারাও আপনার সাথে তওবা করুক।’ হযরত উসমান বিন্দুমাত্র আপত্তি বা সংকোচ করেন নি যে তার ক্ষেত্রে একথা প্রযোজ্য নয়, তিনি তো যথার্থভাবে আল্লাহ্‌র তাকওয়া অবলম্বন করেন; বরং তিনি তৎক্ষণাৎ কিবলার দিকে মুখ ফিরিয়ে দু’হাত তুলে দোয়া করেন- ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আস্তাগফিরুকা ওয়া আতুবু ইলাইকা’, ‘হে আল্লাহ্, নিশ্চয়ই আমি তোমার কাছে ক্ষমা চাইছি এবং তোমার দিকে প্রত্যাবর্তন করছি!’ উপস্থিত সবাই হাত তুলে তার সাথে দোয়ায় অংশ নেন। তিনি কতটা খোদাভীরু ও বিনয়ী ছিলেন যে কোন তর্কে যান নি, সাথে সাথে হাত তুলে উম্মতের জন্যও দোয়া করেছেন, নিজের জন্যও দোয়া করেছেন!

হযরত উসমানের দানশীলতা ও বদান্যতা সম্পর্কে তো ইতোপূর্বেও অনেক বর্ণনার উল্লেখ করা হয়েছে; হযরত উসমান স্বয়ং বলেন, ‘আমি দশটি বিষয় আমার প্রভু-প্রতিপালকের কাছে লুকিয়ে রেখেছি। আমি ইসলাম গ্রহণকারীদের মধ্যে চতুর্থ ব্যক্তি; আমি কখনও বৃথা বিষয়াদি নিয়ে কোন গান শুনি নি, কখনও মিথ্যা বলি নি। যেদিন থেকে আমি মহানবী (সা.)-এর হাতে বয়আত করেছি, সেদিন থেকে আমি ডানহাত দিয়ে নিজের লজ্জাস্থান স্পর্শ করি নি। আর ইসলাম গ্রহণের পর এমন কোন জুমুআর দিন অতিবাহিত হয় নি যেদিন আমি কোন দাস মুক্ত করি নি; জুমুআর দিন কোন দাস না থাকলে সপ্তাহের অন্য কোন দিন এর পরিবর্তে দাস মুক্ত করেছি। আর আমি অজ্ঞতার যুগেও কখনও ব্যভিচার করি নি, ইসলাম গ্রহণের পরও কখনও ব্যভিচার করি নি।’ হযরত উসমানের মুক্তকৃত দাস আবু সাঈদ বর্ণনা করেন, অবরুদ্ধ থাকাকালেও তিনি বিশজন দাস মুক্ত করেন। হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন মাসউদ বর্ণনা করেন, একবার তারা মহানবী (সা.)-এর সাথে কোন যুদ্ধাভিযানে ছিলেন; এক পর্যায়ে ক্ষুধার তাড়নায় মুসলমানদের চেহারায় তিনি উদ্বেগ এবং মুনাফিকদের চেহারায় আনন্দের ছাপ দেখতে পান। মহানবী (সা.) এই অবস্থা দেখে বলেন, ‘সূর্য ডোবার আগেই আল্লাহ্ তা’লা তোমাদের রিযকের ব্যবস্থা করে দিবেন।’ হযরত উসমানে কানে এই কথা পৌঁছলে তিনি তৎক্ষণাৎ শস্যে বোঝাই ১৪টি উট কেনেন এবং ৯টি মহানবী (সা.)-এর সমীপে উপহারস্বরূপ প্রেরণ করেন। অবস্থা দেখে মুনাফিকদের মুখ কাল হয়ে যায়। মহানবী (সা.) দু’হাত তুলে প্রাণভরে হযরত উসমানের জন্য দোয়া করেন। ইবনে সাঈদ বর্ণনা করেন, ছোটবেলায় তার কাছে একটি পাখি ছিল, একদিন তিনি মসজিদে পাখিটি ওড়াচ্ছিলেন। তিনি দেখেন, মসজিদে অত্যন্ত সুদর্শন এক ব্যক্তি মাথার নিচে ইট দিয়ে শুয়ে আছেন। তিনি তাকে জিজ্ঞেস করেন, ‘বাবু, তুমি কে?’ ইবনে সাঈদ নিজের পরিচয় দিলে তিনি একজনকে পাঠিয়ে তার জন্য একটি পোশাক আনান, তাকে সেটি পরিয়ে দেন ও তার পকেটে এক হাজার দিরহাম দিয়ে দেন। বাড়ি ফিরে তিনি নিজ পিতাকে সবকিছু বললে তার পিতা বলেন, ‘বাবা, জান তিনি কে? তিনি আমীরুল মুমিনীন হযরত উসমান বিন আফফান!’ হযরত তালহা হযরত উসমানের কাছ থেকে পঞ্চাশ হাজার দিরহাম ধার নিয়েছিলেন; যখন তিনি তা ফেরত দিতে চান তখন হযরত উসমান তাকে বলেন, ‘আপনার বদান্যতার কারণে আমি সেটি আপনাকে উপহার দিয়েছি, সেটি ফেরত নেব না।’

হযরত উসমান ওহী লিপিবদ্ধ করারও সৌভাগ্য লাভ করেন, সূরা মুয্যাম্মিল যখন অবতীর্ণ হয় তখন তা হযরত উসমান লিপিবদ্ধ করেন। হযরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন যে এই ঘটনা প্রচণ্ড গরমের এক রাতে ঘটেছিল; হযরত জিব্রাঈল মহানবী (সা.)-এর উপর ওহী করছিলেন এবং তিনি (সা.) হযরত উসমানকে বলছিলেন, ‘হে উসমান, লিখতে থাক!’ হযরত আয়েশা বলেন, ‘আল্লাহ্ তা’লা তাঁর রসূলের (সা.) এরূপ নৈকট্য অত্যন্ত সম্মানিত ও সম্ভ্রান্ত কাউকেই দিয়ে থাকেন।’

হযরত আবু বকর (রা.)-এর খিলাফতকালে প্রথম কুরআনের লিখিত কপি প্রস্তুত করা হয়, হযরত আবু বকরের জীবদ্দশায় তা তার কাছেই সংরক্ষিত থাকে। হযরত আবু বকরের মৃত্যুর পর তা হযরত উমরের কাছে সংরক্ষিত থাকে, তার মৃত্যুর পর এটি উম্মুল মুমিনীন হযরত হাফসার কাছে সংরক্ষিত থাকে। আর্মেনিয়া ও আযারবাইজান জয়ের জন্য সিরিয়াবাসীদের সাথে যুদ্ধশেষে হযরত হুযায়ফা বিন ইয়ামান আমীরুল মুমিনীন হযরত উসমানকে অবগত করেন যে সেখানে তিনি বিভিন্ন লোকদের বিভিন্নভাবে কুরআন পড়তে দেখেছেন; তিনি শংকা প্রকাশ করেন যে মুসলমানরাও হয়তো ভবিষ্যতে ইহুদী খ্রিস্টানদের মত আল্লাহ্‌র কালাম নিয়ে মতভেদে লিপ্ত হয়ে পড়বে, তিনি যেন উম্মতকে এই বিপদ থেকে রক্ষা করেন। হযরত উসমান তখন হযরত হাফসার কাছ থেকে কুরআনের সেই মূল কপিটি আনিয়ে নেন এবং হযরত যায়েদ বিন সাবেত, আব্দুল্লাহ্ বিন যুবায়ের, সাঈদ বিন আস ও আব্দুর রহমান বিন হারেসকে সেটির আরও কিছু কপি প্রস্তুত করতে নির্দেশ দেন। শেষোক্ত তিনজনকে, যারা কুরায়শ ছিলেন, তাদেরকে তিনি একথাও বলে দেন, যদি কুরআনের কোন অংশের বা শব্দের ব্যাপারে হযরত যায়েদের সাথে তাদের ভিন্নমত থাকে, তাহলে তা যেন তারা কুরায়শদের ভাষায় লিপিবদ্ধ করেন, কারণ কুরআন কুরায়শদের ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে। নতুন কপি প্রস্তুত হলে মূল কপি তিনি হযরত হাফসাকে ফিরিয়ে দেন এবং বিভিন্ন দেশে এই কপিগুলো পাঠিয়ে নির্দেশ দেন, এগুলো ছাড়া কুরআনের অন্যান্য কপি যেন পুড়িয়ে ফেলা হয়। হযরত মুসলেহ্ মওউদের বরাতে হুযূর (আই.) এই বিষয়টির বিস্তারিত ব্যাখ্যা তুলে ধরেন। শিয়ারা আপত্তি করে যে হযরত উসমান নাকি কুরআনের অন্যান্য কপি পুড়িয়ে ফেলিয়েছিলেন, অথচ তার উদ্দেশ্য নিতান্ত মহৎ ছিল এবং এটি করার কারণেই আজ পৃথিবীতে কুরআনের আদি-অবিকৃত রূপটি বিদ্যমান রয়েছে। যখন কুরআন অবতীর্ণ হয়েছিল, তা কুরায়শদের ভাষাতেই অবতীর্ণ হয়েছিল; কিন্তু কুরায়শরা ছিল শহরের লোক এবং তাদের উচ্চারণ স্পষ্ট ছিল। আরবের অন্যান্য স্থান যেমন তায়েফ, নজদ, ইয়েমেন প্রভৃতি ও বেদুইনদের ভাষা সম্পূর্ণ এক ছিল না। এজন্য মহানবী (সা.) অনুমতি দিয়েছিলেন, সবাই তাদের নিজেদের ভাষায় কুরআনের আয়াতের মূল অর্থ ঠিক রেখে সমার্থক বা উপযুক্ত শব্দ ব্যবহার করে পড়তে পারে। এটি নিয়েই প্রসিদ্ধ ঘটনা রয়েছে যে হযরত উমর, হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন মাসউদকে কোন একটি সূরা ভিন্নরূপে পড়তে দেখে তাকে মহানবী (সা.)-এর কাছে নিয়ে যান এবং অভিযোগ করেন, ‘হে আল্লাহ্র রসূল, আপনি আমাকে যেভাবে শিখিয়েছেন, এটি তো তার থেকে ভিন্ন।’ মহানবী (সা.) আব্দুল্লাহ্ বিন মাসউদের পঠনকেও সঠিক আখ্যা দেন ও বলেন, কুরআন সাতটি ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে। কিন্তু মদীনা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিশ বছর অতিবাহিত হবার পর, যখন মদীনা আরবের রাজধানী হওয়ার কারণে সব স্থানের মানুষই সেখানে আসা-যাওয়ার ফলে হেজাযের ভাষা রপ্ত করে নিয়েছিল এবং ভাষা ও সংস্কৃতির সেই দূরত্ব আর ছিল না, বরং সব একীভূত হয়ে গিয়েছিল, তখন হযরত উসমান ঐক্য ও অভিন্নতা ধরে রাখার জন্য এবং সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা এড়ানোর লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। বর্তমান যুগে বিশ্বব্যাপী ইসলামের প্রসারের প্রেক্ষিতে আমরা সহজেই বুঝতে পারি, যদি কুরআনের বিভিন্ন স্থানে ভিন্ন ভিন্ন শব্দ ব্যবহারের সেই সুযোগ এখনও থাকতো, তাহলে ব্যাপক সন্দেহ ও সংশয় সৃষ্টি হতো এবং এর অবিকৃত থাকার বিষয়ে বিরুদ্ধবাদীরা আপত্তি করার সুযোগ পেত। অথচ হযরত উসমানের সেই পদক্ষেপের ফলে চরম ইসলাম-বিদ্বেষীরাও একথা স্বীকার করে যে কুরআন হুবহু সেই রূপেই বর্তমানে বিদ্যমান, যেমনটি তা হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সময় ছিল।

Top